Software Engineering(SWE), IUT

IUT তে Computer Science & Engineering Department এর অধীনে দুইটি প্রোগ্রামে ছাত্র ছাত্রী ভর্তি নেয়া হয়।

Computer Science and Engineering (120)

Software Engineering (60)

সিএসই আর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়রিং এর মধ্যে পার্থক্যটা কী?

এটা সম্ভবত এই গ্রুপের সবচেয়ে trending প্রশ্ন এর একটা। তাই আমিও একটু সময় নিয়ে জিনিস টা explain করব।

একদম ছোট করে যদি শুরুতেই বলি, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ তোমার জীবনের বেশ অনেকটা সময় ল্যাবের মধ্যে কাটাতে হবে । বাস্তব জীবনের সফটওয়্যার বানানো আর প্রোগ্রামিং করা কিন্তু আসলে সবসময় এক হয়না ।

একটা সফটওয়্যার বানাতে গেলে তোমাকে অনেক কিছু মাথায় রেখে প্রোগ্রামের প্রতিটা লাইন লিখতে হবে । তোমার লেখা কোড যাতে অন্য আরেকজন প্রোগ্রামার এডিট করতে পারে, সেটাও তোমাকে মাথায় রাখতে হবে ।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ এই জিনিসগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে কারিকুলামটা সাজানো হয় । এর সাথে তোমাকে অন্য ছাত্র এবং শিক্ষকদের সাথে collaboration ও করতে হবে অসংখ্য যায়গায়। এমন কিছু প্রোজেক্ট থাকবে যেখানে তুমি একজন শিক্ষকের সাথে পুরো একটা সেমিস্টার একেবারেই একান্তে আলোচনা করে কাজ করতে পারবে।

সিএসই এর পুরো কোর্সটা কে দুইভাগে দেখা যায় – হার্ডওয়ার আর সফটওয়্যার। সিএসই কোর্স প্ল্যানে দুইটার উপর সমান গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হয়।

নাম শুনেই বুঝতে পারার কথা, সফটওয়্যার বেশি গুরুত্ব দেয়া হয় সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর প্রতি। এর মানে এটা না, এখানে তোমাকে হার্ডওয়্য্যার রিলেটেড কিছু পড়ানো হবে না।

এখানেও তোমাদের জন্য প্রয়োজনীয় সব কোর্স কভার করানো হবে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং-এ নন-ডিপার্টমেন্টাল কোর্সগুলো অনেক কম । এর মাঝে যেগুলো আছে সবগুলোই কোন না কোনভাবে তোমার ভবিষ্যত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার জীবনে গুরত্বপূর্ণ। এর মাঝে উল্লেখযোগ্য কিছু কোর্স হল,

  • একাউন্টিং
  • বিজনেস সাইকোলজি এ্যান্ড কমিউনিকেশন
  • ইঞ্জিনিয়ারিং ইথিক্স

এখন চিন্তা কর তুমি বিজনেস সাইকোলজি, কমিউনিকেশন স্কিল আর একাউন্টিং সম্পর্কে ধারণা না রাখলে সফটওয়্যার উদ্যোক্তা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে কিভাবে। একইভাবে তোমার কাজ সঠিক নাকি ভুল এর সিদ্ধান্ত নিতে অনেকটাই সাহায্য করবে ইথিক্স কোর্স। কাজেই নন ডিপার্টমেন্টাল হলেও এই কোর্স গুলোর গুরুত্ব কম নয়।

🟢  PROJECT

এই অংশটা হচ্ছে IUT Software Engineering প্রোগ্রামের সবচেয়ে ইউনিক জিনিস । ২য় সেমিস্টার থেকে তোমাদেরকে পরবর্তী প্রতিটা সেমিস্টারে প্রোজেক্ট বানাতে হবে । ২য় সেমিস্টার এর প্রোজেক্ট টা হবে Object Oriented Concepts কোর্স এর অন্তর্ভুক্ত একটি প্রোজেক্ট। এখানে C#, JAVA এরকম কোন একটি ল্যাংগুয়েজ দিয়ে সম্পূর্ণ একটা সফটওয়্যার তৈরি করতে হবে।

৩য় সেমিস্টার থেকে থাকা প্রোজেক্টগুলো আগের মত সাধারণ কোন প্রোজেক্ট না । একদম ফর্মাল ড্রেসে এসে তোমাকে প্রোজেক্ট কমিটির সামনে প্রোজেক্ট আইডিয়া উপস্থাপন করতে হবে ।

এই কমিটিতে লেকচারার থেকে শুরু করে প্রফেসর রা পর্যন্ত থাকবেন এবং সর্বাত্মক ভাবে চেষ্টা করবেন তোমার ভুল গুলো খুজে বের করতে। কাজেই তাদের সামনে দিয়ে প্রোজেক্ট বের করে আনা মানে অবস্যই বলতে হবে এটা একটা দারুন প্রোজেক্ট। তোমাকে একজন শিক্ষকের আন্ডারে অ্যাসাইন করে দেওয়া হবে ।

প্রতি সপ্তাহে কি কি কাজ করলা সেটার আপডেট দিতে হবে । প্রোগ্রেসের উপরে কমিটির সামনে প্রেজেন্টেশন দিতে হবে । এক কথায় বলতে গেলে একদম প্রফেশনালভাবে একটা রিয়েল-লাইফ সফটওয়্যার বানানোর আনন্দটা তুমি উপভোগ করতে পারবে ।

তোমাদের বুঝার সুবিধার জন্য সিএসই আর সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর্স আউটলাইন এর লিঙ্ক দিয়ে দিলাম।

https://drive.google.com/drive/folders/1R2qzpyAoOMcsjRsvo3Hv1VOCe6PSZWC3?usp=sharing

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোন কোর্স গুলো আলাদা?

তোমরা প্রথম এক-দুই বছর Structured Programming, Discrete Mathematics, Digital Logic Design, Object Oriented Concept, Database Management System, Data Structures, Linear Algebra, Algorithms, Data Communication and Networking – এরকম জেনারেল কোর্স গুলো কভার করবা।

দুনিয়ার যে ইউনিভার্সিটি তেই তুমি যাও না কেন, এসব কমন টপিক তোমার কভার করতেই হবে। সিএসই আর সফটওয়্যার দুই প্রোগ্রামেই তোমরা প্রথম দুই বছর এগুলো পড়বা।

সেকেন্ড ইয়ারে উঠে তোমাদের কিছু specialized subject পড়ানো শুরু হবে। Software Engineering এর ছাত্র ছাত্রীরা যাতে Industry এর জন্য প্রস্তুত থাকে, সেভাবেই কোর্স গুলো Introduce করা হয়েছে।

Software Requirements and Specifications, Design Patterns, Server Programming, Software Design and Architectures, Software Testing and Quality Assurance, Software Metrics and Process, Software Project Management, Software Verification and Validation, Web and Mobile Application Development, UI/UX Design এর মত কোর্স গুলো তোমরা লাস্ট তিন ইয়ারে পড়বা। মূলত, এই কোর্স গুলো দিয়েই CSE আর SWE এর কোর্স কারিকুলামের ডিফারেন্স গুলো।

তোমাদের অনেকের বুঝার কথা না জিনিস গুলো কি! জীবনের সবচেয়ে বড় ডিসিশন নেয়ার আগে জাস্ট সাব্জেক্ট গুলোর নাম গুগলে সার্চ দিয়ে না দেখার ভুল টা করো না।

🟢  INTERNSHIP

পাশাপাশি সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং এর স্টুডেন্ট দের জন্য থার্ড ইয়ারের শেষে 4 মাসের বাধ্যতামূলক Internship আছে, যেটা একাডেমিক কোর্স এর অন্তর্ভুক্ত।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৫ম ব্যাচ (ব্যাচ ২১) সবাই কয়েক মাস পরেই  internship এ যাবে। বাংলাদেশ এর অলমোস্ট সব লিডিং সফটওয়্যার কোম্পানি গুলোতে আই ইউ টি থেকেই এই Internship গুলো ম্যানেজ করা হয়।

সিএসই ভাল নাকি সফটওয়্যার ভাল?

আরেকটা Trending Question!

সোজা উত্তরঃ কোর্স এর কোন ভাল খারাপ নাই। সিরিয়াসলি পড়ালেখা করলে দুনিয়ার যে কোন কিছু করেই উন্নতি করতে পারবা।

কোর্স কারিকুলাম দেয়া আছে, Google আছে। জীবনের সবচেয়ে বড় ডিসিশন নেয়ার আগে একটু টাইম ইনভেস্ট কর। অন্য কারো কথায় এসব ডিসিশন নিও না।

তাহলে সিএসই এর সিট আগে শেষ হয় কেন?

খুবই সহজ উত্তর।

সিএসই তে স্কলারশিপ চান্স আছে। সবাই সেই চান্সটা নিবে। এবং সেটাই স্বাভাবিক।

সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং তুলনামূলক নতুন প্রোগ্রাম বিধায় অনেকের মধ্যে hesitation থাকে। অনেক প্রশ্নের উত্তর সকলের মনে পরিষ্কার থাকে না। ।

🟢  বাংলাদেশে SOFTWARE ENGINEERING এর ভবিষ্যত আছে?

বাংলাদেশে অলমোস্ট সব ইউনিভার্সিটি তে CSE থাকলে ও Software Engineering প্রোগ্রাম আছে খুবই কম ভার্সিটিতে। এত বছর ধরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের জায়গা পূরণ করা হত CSE ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে। ইনফ্যাক্ট এখনো।

তাহলে, বুঝতেই পারছো IUT এর মত ভার্সিটি থেকে গ্র‍্যাজুয়েটেড একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এর চাহিদা কেমন হবে চাকরির বাজারে। দিন যত বাড়বে সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার এর চাহিদা বাড়বে, কমবে না।

তবে, পড়ালেখার পাশাপাশি অবশ্যই স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

🟢  IUT তে প্রোগ্রামিং স্কিল ডেভেলপ করার চান্স আছে?

এটাই আসলে IUT-এর মূল আকর্ষণ । IUT-এর ল্যাব ক্লাসগুলোতে তোমাকে একদম কাজ শিখিয়েই ছাড়া হবে । বেশিরভাগ শিক্ষকরাই অনেক বেশি আন্তরিক এবং তোমাকে যতভাবে সম্ভব, সাহায্য করার চেষ্টা করবেন ।

তারা কপি করা কোড এর বিষয়ে যেমন কড়া তেমনই কাজ করার মাঝে সাহাজ্যের জন্য যতবার ই তুমি ডাক না কেন তারা তোমার কাছে উঠে আসবেন। তুমি বসে থাকবে তোমার পাশে দাঁড়িয়ে উনি তোমার কোডের ভুল গুলো খুঁজতে তোমাকে সাহাজ্য করবেন।

একাডেমিক পড়ালেখার বাইরেও কোডিং স্কিল বাড়ানোর জন্য বছরের শুরু থেকেই প্রতি উইকে ACM ক্লাস নেয়া হয়। যেখানে টিচার দের বদলে থাকে সিনিয়র ভাই আপুরা। এর বাইরেও, প্রোগ্রামিং রিলেটেড যে কোন সমস্যা, জিজ্ঞাসা সলভ করা এবং গাইডলাইন দেয়ার জন্য ভাই আপুরা তো আছেন। তবে এর জন্য অবশ্যই তোমার শেখার সদিচ্ছা থাকতে হবে।

🟢  অন্যান্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য?

অন্যান্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট এর জন্য উইকলি Web Development, Game Development, Android App Development ক্লাস নেয়া হয়, যেগুলো কোনটাই একাডেমিক কোর্স এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত না। তুমি চাইলেই এসব ক্লাসে জয়েন করতে পারবা।

কিন্তু বিষয়টা কখনওই এমন না যে ক্লাস না হলে তুমি নতুন স্কিল শিখতে পারবেনা । যেহেতু ল্যাব ক্লাসগুলোতে তোমার কোডিং স্কিল আস্তে আস্তে বাড়ছে, তুমি ইউটিউব থেকে নিজে নিজেই অনেক স্কিল অর্জন করে, অনেক ধরণের প্রোজেক্ট বানিয়ে তোমার গিঠাব প্রোফাইলটাকে এনরিচ করে ফেলতে পারবে ।

কত পজিশন পর্যন্ত এই সাব্জেক্ট পাওয়া যাবে?

এই প্রশ্নের উত্তর দেয়াটা সবচেয়ে কঠিন। এটলিস্ট ২-৩ রাউন্ডের ভর্তি শেষ না হলে উত্তর দেয়াটা অসম্ভব।

🟢  ALUMNI

একটা ইউনিভার্সিটি বা ডিপার্টমেন্ট কতটা সফল- সেটা বুঝতে হলে তোমাদের অবশ্যই Alumni দের সম্পর্কে জানতে হবে।

Google, Microsoft, Facebook, Amazon, Samsung এর মত Global Tech Giant গুলোতে আমাদের alumni রা আছেন। Unilever, BAT, Nestle এর মত Multinational কোম্পানি,Robi, Banglalink, Grameenphone এর মত Telecommunication কোম্পানি গুলো থেকে শুরু করে Bkash, Pathao, Shopup এর মত লোকাল কোম্পানি – সব জায়গাতেই IUTIAN ALUMNI দের খুজে পাবা।

এর পাশাপাশি Battery Low Interactive, Bondstein, Singularity এর মত বেশ কিছু IUTIAN Startup ও আছে।

IUT-এর Alumni ভাই ও আপুরা কী পরিমাণ আন্তরিক হয় সেটা তুমি কল্পনাও করতে পারবেনা । ওনাদের সাধ্যমতো ওনারা আমাদেরকে সাহায্য করে যান ।

🟢  HIGHER STUDIES OPPORTUNITIES

বিশ্বের নামকরা প্রায় সকল ইউনিভার্সিটি তে IUT Alumni পাবা এবং সেটা যে কোন ডিপার্টমেন্ট

এর ই। IUTCS এর ফেসবুক পেজ ঘুরে আসলে IUT CSE Alumni সম্পর্কে কিছু টা আইডিয়া পেতে পারো।

🟢  IUTCS (IUT COMPUTER SOCIETY)

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই সোসাইটি প্রতি বছর বিভিন্ন Intra University Event অর্গানাইজ করে থাকে। Programming Contest, Android App Development Course, Web Development Course নেয়া হয়েছে সাম্প্রতিক বছর গুলো তে। এর পাশাপাশি বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য IUT National ICT Fest ও আয়োজন করা হয়।

IUTCS Facebook Page – https://www.facebook.com/IUTCS

আরো আইডিয়া নেয়ার জন্য IUT CSE Department এর Website টাও ঘুরে দেখে আসতে পার।

https://cse.iutoic-dhaka.edu/

শেষে একটা কথাই বলব, যদি কোডিং করার প্যাশন থাকে, নতুন কিছু করার চ্যালেঞ্জ নেয়ার ইচ্ছা থাকে, Computer Science রিলেটেড সাব্জেক্ট পড়ার ইচ্ছা থাকে, তবে কোন সংশয় ছাড়াই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং নিতে পারো। লাল স্বর্গ তোমারই অপেক্ষায়… ❤

Version [23] Updated By

Adib Sakhawat Shuvro

IUT Software Engineering (Batch 21)

 

Version [22] Updated By

Tahmid Zubayer

IUT Software Engineering (Batch 20)

 

Main Post was written by:

Fahim Arsad Nafis

IUT Software Engineering (Batch 17)

You cannot copy content of this page