ইরাকে হামলা কইরা আমেরিকা জিততে পারে নাই। আফগানিস্তানেও জিততে পারে নাই। সেই আমেরিকা এখন ইরানে হামলা কইরা জিততা যাবে এইরকম ভাবনের কিছু নাই।
এক বিখ্যাত ঐতিহাসিককে ধার কইরা বলতে পারি, ইরানে হামলার চিন্তা ‘টোটাল ম্যাডনেস।’
অনেকে বলবেন, ইরাক দেশটাকে ধ্বংস কইরা দিয়া আমেরিকা একধরনের ভিক্টরি কোন না কোন ভাবে অর্জন করছে। এইগুলা ভুল ইন্টারপ্রেটেশন। ইরাকে হামলা কইরা আমেরিকা যা পাইছে, তার চাইতে হারাইছে বেশি।
আমেরিকা যুদ্ধ কইরা কখনোই সাকসেস স্টোরি মেইক করতে পারে না, এইটা এখন আমেরিকার মানুষ জানে। ফলে যেকোন নতুন মার্কিন যুদ্ধে এখন সবচেয়ে বড় বাধা আমেরিকার ভিতরের মানুষ।
ইরাকে দুই ট্রিলিয়নের অধিক খরচ কইরা এবং আফগানিস্তানে প্রায় আড়াই ট্রিলিয়ন খরচ কইরা আমেরিকা নিজের দেশের মানুষের ভাত খাওয়া আর চিকিৎসার স্বাভাবিকতা ক্ষুণ্ণ করছে।
সেই আমেরিকার মানুষ নিজে না খাইয়া এখন আবার ইরানের ভাত মারার কথা চিন্তা করবে? নো ওয়ে। আমেরিকার পপুলেশননের একটা বড় অংশ এরজন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টরেও ফালাইয়া দিতে দ্বিধা করবে না।
ইরান কোন খেলনা রাষ্ট্র না। ফলে ইরান রাষ্ট্রের ভিত্তি ভাঙতে হইলে আমেরিকার ৫ ট্রিলিয়ন খরচও যথেষ্ট না।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য মানে আমেরিকান সোলজারদের কাছে কবরস্থানের অনুভূতি। ইরাকে এবং আফগানিস্তানে আমেরিকান সোলজাররা যেই মানসিক ট্রমা খাইয়া আসছে, সেই একই ট্রমা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন সকল মার্কিন সোলজার বহন করে।
আমেরিকান ট্রুপসের এই ইন্সটিটিউশনাল মেমোরি তাদেরকে যেকোন বড় যুদ্ধে শুরু থেকেই পর্যুদস্ত কইরা রাখবে।
ফলে, ডোনাল্ড ট্রাম্প চাইলেই ইরান হামলা কইরা ফেলতে পারবে বিষয়টা এমন না। তবে এরপরেও তিনি যদি এই যুদ্ধ শুরু করেন, তাইলে তিনি মূলত আমেরিকাকে জাহান্নামের ভিতরে নিয়া ঢুকাইবেন।
২.
ইরান পারমাণবিক বোমা বানাইয়া ফেলছে বা ফেলার দ্বারপ্রান্তে। এইটা আমেরিকা জানে। তা সত্ত্বেও গত মার্চে তুলসি গ্যাবার্ড বলছিলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করতেছে না।
কারণ এই কূটনৈতিক রাস্তাই ইরানের পারমাণবিক থ্রেট মোকাবেলার রাস্তা। নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটি উড়াইয়া দিয়া এই থ্রেট ডিজমেন্টাল করা যাবে না।
কিন্তু নেতানিয়াহু আমেরিকাকে সেই কূটনৈতিক মোকাবেলার রাস্তা থেকে সরাইয়া ডিরেক্ট কনফ্রন্টেশনের লাইনে নিয়া যাইতেছে।
ইজরায়েল লবির এই চাপ ডোনাল্ড ট্রাম্প সামলাইতে হিমশিম খাইতেছেন। ফলে তিনি যুদ্ধবাজ প্রেসিডেন্টগিরির পপুলার প্রদর্শনে নিজেকে হাজির রাখতেছেন।
কিন্তু ট্রাম্পকে আমার সেন্সেবল মানুষ মনে হয়। মানে জর্জ ডব্লিউ বুশ ধরনের ছিটগ্রস্ত প্রেসিডেন্ট তিনি না। যুদ্ধবাদী পপুলারিটি ছাড়াও তিনি একটা ওয়ে আউট নিশ্চয়ই বাইর কইরা নিতে পারবেন।
অন্তত তিনি যখন ভালো কইরাই জানেন, জিবিউ-৫৭ জাতীয় বোম মাইরাও আসলে ইরানের ফোর্দো নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটির গভীরতা তিনি রিচ করতে পারবেন না।
ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এজেন্সির ডিরেক্টর রাফায়েল গ্রসি স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, ফোর্দো নিউক্লিয়ার ফ্যাসিলিটিতে এনরিচড ইউরিনিয়াম মাটির আধা মাইল নিচে।
এর অর্থ মাটির ৮০০ মিটার নিচে। সিএনএন বা ওয়েস্টার্ন মিডিয়া আউটলেটগুলা যেভাবে ৮০ থেকে ১১০ মিটারের কথা বলে বিষয়টা মোটেও তা না।
কাজেই বোম্বিং কইরা ইরানের পারমাণবিক থ্রেট ডিজমেন্টাল করা সম্ভব না। আর যদি তা করা না যায়—তাইলে ইরান রাষ্ট্রের ভিত্তি নষ্ট কইরা কী লাভ হবে?
ইরানের মতো শক্তিশালী রাষ্ট্রের কাঠামো ভাঙার চেষ্টা করলে চায়না বা রাশিয়াও সেইটা ভালো চোখে দেখবে না। শুধু তাই না, তুরষ্ক বা সৌদি আরবও এইটা এলাও করবে না।
এইসব কিছু মিলাইয়া, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-হামলায় আমি কোন ক্লিয়ার অবজেক্টিভ দেখি না। ফলে সম্ভাবনাও দেখি না।
‘টোটাল ম্যাডনেস’ ছাড়া এই চিন্তা আর কিছু না।
৩.
অনেকেই একটা কথা বলেন, ইজরায়েল-আমেরিকা-ইউরোপ সংঘের এই ক্রুসেড থেকে আমাদের মুক্তি নাই।
তারা আমেরিকার এই ডাউনফল বা কোনঠাসা অবস্থাটা আমলে নেন না। ইরানের ইন্টেলিজেন্সের কিছু ফেইলিওর দিয়া সবকিছু মিলাইয়া ফেলতে চেষ্টা করেন।
এইটা দুই হাজার তিন সালের আমেরিকা না। গত বিশ বছরে দুনিয়ায় অনেক পানি গড়াইছে। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ ধরনের কথাগুলা এখন আমেরিকা নিজেই দিনরাত জপতে থাকে।
ক্রুসেড আর ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ এক পাতিলে ঘুটা দেওয়া কখনোই সম্ভব না। একটা ধরলে আরেকটা আমেরিকাকে বিসর্জন দিতে হবে।



