ছাত্রলীগের নিপীড়ন/ জাহিদুর রহমান – কুয়েট

কারাগারের দিনগুলোর কথা আজ খুব মনে পড়ছে।
শুধু শুধু নি*ষিদ্ধ সংগ*ঠন ছাত্রলীগের পদের নেশায় ৭/৮ ঘন্টা পা*শবিক ভাবে মানসিক ও শারীরিক নি*র্যাতন করে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে দিয়ে দিল!
আজকের এই দিনের আনন্দ প্রকাশ করার ভাষা জানা নেই তবুও কিছু কথা!

কারাগারে সারাদিন কান্না কাটি করতাম। প্রথম দিকের দিনগুলো কান্না করতে মাথা ব্যাথায় ঘুমাইতাম আবার ঘুম থেকে উঠে কান্না করতাম। আর ঘড়ির দিকে তাকাই থাকতাম। প্রথম এক সপ্তাহের ঘুম বাদে দিন এবং রাতের বেশীর ভাগ সময় ঘড়ির কাঁটার প্রতিটা সেকেন্ড যেন চোখের সামনে দিয়ে যেত!

যেদিন বাসায় ফোন করতাম ঐদিন সবচেয়ে বেশী কান্না করতাম। একদিন কারাগারের সাক্ষাৎ রুমে ভাই এসে বলল বাসায় ফোন দিলে যদি কান্না কাটি না করতে পারছ তাহলে ফোন দিছ না । মাকে বাচতে দে।তোর চেয়ে বেশী চিন্তায় আছি মাকে নিয়ে। কারও সাথে কথা বলে না খায়না বাচে না মরে যায় সবাই চিন্তিত। তোরত যা হইছে এখন মাকে বাচতে দে।

তারপর থেকে একটা অদৃশ্য আতংকের মাঝে দিন গুলো পার হতো। কখন না যেন মা মারা যায় শেষ বার মাকে আর দেখার সুযোগও হয়ত হবেনা!

হাজিরার তারিখে বাবা খুলনা আসল কোর্টে দেখা করতে। আমার সামনে হাসি খুশি সাহস জোগাচ্ছে। কিন্তু আড়ালে গিয়ে কান্না করতেছে।আমাকে বুঝতে দিচ্ছে না!

কারাগারের প্রিজন সেলে বড় ভাই Naeeim Islam এর যে অসহায়ত্ব কান্নার আহাজারি দেখলাম তা কোন ছোট ভাই যেন আর না দেখে!

ছোটবোন বেশীর ভাগ সময় নাকি জায়নামাজ এই পড়ে থাকত আর কান্না করত!

যেদিন প্রিজন সেল থেকে এরেস্ট করে নিয়ে যায় সেদিন ছোট মামা Raju Khan অনেক কষ্টে কান্না লুকাচ্ছে আর সাহস দিচ্ছে আমাকে।আমার যে ছোট মামা কে কখনো কাঁদতে দেখিনি। আমার জামিন না মঞ্জুর হওয়ার পর হাউমাউ করে কারাগারের সাক্ষাৎ রুমের কান্নায় আমার সাথে কোন কথায় আর সেদিন বলতে পারেনি।

মামার কান্না দেখে সেদিন কারাগারে এত বেশী কান্না করছি বাকী কয়েদি ও হাজতীরা অবাক হইছে!

আমার বড় ভাই, খালাতো ভাই Afsan Ullah Rishad ও চাচা Md Ziadul Islam অপরিচিত খুলনায় কতজনের কাছে যে দৌড়াদৌড়ি করছে বৃষ্টির মধ্যে ভিজেভিজে যেন আমার নামে মামলাটা না করে।

অপরিচিত এই খুলনা শহরে আল্লাহ সাহায্যের জন্য একটা পরিবার ও মিলিয়ে দিলেন। এই পরিবার আমার জন্য কত চেষ্টা করে যাচ্ছে গত ২ বছরে।

জেল থেকে জামিনে বের হওয়ার পর শুনি আমার নানা সারাদিন মসজিদে পরে থাকত আর কান্না কাটি করত। এলাকার মানুষরা নাকি বলত নাতির জন্য কান্না করতে করতে নানা মারাই যাবে।

জামিনে বের হওয়ার পর বাসায় যে কয়দিন ছিলাম কি ছলছল চোখে তাকিয়ে আমার গায়ে হাত বুলাতে থাকত।আর আমার সাথেই থাকত যেন নানার বিশ্বাসই হচ্ছে না আমি জীবিত আছি এবং জেলের বাহিরে। কিছুক্ষণ পরপরই আরে ভাই রে বলে চোখে পানি ছলছল কান্না করত আর শোক প্রকাশ করত!

আর ও কত অজানা আ*তংকের দীর্ঘশ্বাস এর রজনী ও গল্প আছে আমার আত্মীয় স্বজনের ও পরিচিত অপরিচিত মানুষ জনের সাথে।

এমনও হইছে কোথাও দেখা হইছে প্রথমবার কারও সাথে শুধু শুনছে আমি কুয়েটের জাহিদুর জড়িয়ে ধরে কান্না করে দিত আর শোক প্রকাশ করত!
এমন কতো গল্প এই ২ বছরে জীবনে যোগ হলো।

হাজারো শহীদদের প্রাণের বিনিময়ে নতুন স্বাধীন বাংলাদেশে আল্লাহ আজ এই সন্ত্রাসীদের সংগঠন ছাত্রলীগ কে কে নিষিদ্ধ করে লাঞ্চনা ও বেইজ্জতির জীবন দিয়েছে ।আল্লাহ আপনাদের কে জান্নাতের সবুজ পাখিদের অন্তর্ভুক্ত করুক।

আজ সবাই কে বলতে ইচ্ছে করছে আপনাদের চোখের পানির মূল্য আল্লাহ দিয়েছে।
এই হাজারো মজলুম ও তার আপনজনদের চোখের পানি ও আহাজারি আল্লাহ আজ কবুল করেছে!
আলহামদুলিল্লাহ।

– জাহিদুর রহমান

https://m.youtube.com/watch?v=cOqO4R5AUKA

You cannot copy content of this page