চান্স পাওয়ার জন্য সেল্ফ মোটিভেশন জরুরি

সাওসান কবির চৌধুরী মাইশাঃ

আমি স্কুল কলেজে থাকতে ফাকিবাজ স্টুডেন্ট ছিলাম এমনিতে। বাসায় তেমন একটা পড়তাম না শুধু পরীক্ষার আগে ছাড়া। তবে এটা ঠিক যে কোচিং এবং জরুরি ক্লাসে ঘুমাতাম না।। মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করতাম।

এভাবেই এইচএসসি দিলাম তারপর শুরু হল ভর্তি কোচিং। আমার ইচ্ছা ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কিন্তু বাবার ইচ্ছা মেয়েকে ডাক্তার বানাবে। বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী মেডিকো তে ভর্তি হলাম।।

ক্লাস শুরু হওয়ার পর দেখলাম আসলে আমি কিছুই পারিনা। ফাকিবাজ হলেও ঢাকার একটা সনামধন্য কলেজে পড়তাম আর মেরিটে নামও থাকতো। কিন্তু কোচিং শুরুর পর অবস্থা থেকে অনেকটাই ভয় পেয়ে গেসিলাম।

প্রথমদিন পরীক্ষায় ১০০ তে পেয়েছিলাম মাত্র ৩২। ভাব একবার। বাসায় মেসেজ গেল। সেই লেভেলের বকা খেলাম। মুষড়ে পড়লাম। কখন ভাবি নি এতটা ফাক রয়ে গেছে।

অনেকে ভাবে ঢাকার বড় বড় কলেজের ছেলেমেয়েরা পড়াশোনায় অনেক এগিয়ে প্রত্যন্ত এলাকাররা অত ভাল না।

কিন্তু দেখলাম ঢাকার বাইরের ছেলেমেয়েরা অনেক পারে।। কারন তারাতো নিজের গরজে পড়সে।।। আমারা তো পড়সি কলেজ আর বাবা মার ঠেলায়।

ডেইলি এক্সামের রেসাল্ট দেখতাম আর মনে হত চান্স কি পাব??

পরে ভাবলাম আমি যদি ডিপ্রেশনে চলে যাই আল্টিমেটলি তো কিছুই হবে না।। তার থেকে এক্টু এক্টু করে পড়া শুরু করি।। প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন। সব ডেইলি এক্সাম একা একাই দিব।। নিজের কাছে সৎ থেকে। কাজে দিল।

সাথে আর একটা কাজ করলাম মেডিকো থেকে যে শিট দিত তার সামনে দুইটা সাদা পেইজ লাগাতাম। সেখানে বই শিট সব পড়ে শর্টে ওইখানে লিখে রাখতাম। কারন পরীক্ষার আগে বই পড়ে কোনদিন ও শেষ করা যাবেনা।

এই নোট পরে অনেক বেশি সাহায্য করসিল। আমার মেডিকেল ভর্তি পরিক্ষার আগে শুধু নিজের করা নোট পড়ে গেসিলাম। মেডিকোতে সাথে এক্সত্রা ম্যাথ করতাম।

সবার শুরুতে ছিল ঢাকা ভার্সিটির ক বিভাগের পরীক্ষা। আমার স্বপ্নের জায়গা। ১৪ দিন আগে কোয়েশ্চেন ব্যাংক কিনে ধুমসে সলভ শুরু করলাম। এই দিনগুলা শুধু DU র জন্য পড়সিলাম।

বাসায় প্রতিদিন একটা করে প্রশ্ন সলভ করতাম। একদম ঘড়ি ধরে। সময়ের আগেই শেষ করতে পারতাম। DU র পরীক্ষা দিতে গেলাম। ইতিহাসের অন্যতম কঠিন প্রশ্ন। ফিজিক্সের একেকটা প্রশ্ন যেন গল্প একেকটা।

কি যে দিলাম নিজেই জানি না। বাইরে বাবা দাঁড়িয়ে ছিল। কোন কথা বললাম না বাবার সাথে শুধু মাটির দিকে তাকায় হাটসি। পরের দিন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা।

প্রথমবারের মত রিটেন। এমনি গেলাম যদিও বড় ম্যাথ কিছুই মনে নাই।। মনের মাধুরি মিশায় পরীক্ষা দিসি।

তারপর জাহাঙ্গীরনগরের ডি ইউনিট। মেডিকেল এর একদিন আগে ছিল কিন্তু সিলেবাস একই হওয়াতে দিলাম। তার আগের দিন DU র রেজাল্ট দিল। পজিশন ৩৪৪৩। খুব যে ভাল তাও না তবে আমার পছন্দের বিষয় পেতাম খুশিই ছিলাম।

(আমাদের বারই ১০,০০০ পাশ করসিল আর সবাইকে ডাকা হইসিল কারন প্রথমে হইসে পরীক্ষা তাই অনেক সিট ফাকা ছিল)

তারপর আসল মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা। সহজ প্রশ্ন কিন্তু কনফিউজিং উত্তর। তারপর বুয়েটের পরীক্ষা দিতে গেসিলাম নিতান্তই বিলাসিতা করে তাও আবার আর্কিটেকচার।

বিকালে মেডিকেলের রেজাল্ট আসল ৩৮৪৩ মাগুরা মেডিকেল কলেজ। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আসল ১২৪৫। জাহাঙ্গীরনগরের ডি ইউনিটে ১১৬।

আমার স্বপ্নের চেয়ে বাবার স্বপ্নের শক্তি বেশি ছিল।

সবাই বলে মেডিকেলের কোচিং করলে ভার্সিটিতে টিকা যায় না। কথাটা আসলে সত্যি না। একটার জন্য ভালভাবে পড়লে অন্যগুলা অনেকাংশে কভার হয়। বই তো সেই একটাই। জাহাঙ্গীরনগরের পরীক্ষা দিসিলাম শুধু কোয়েশ্চেন ব্যাংক পড়ে (ইউনিক)।

আসল কথা হল সৎভাবে চেষ্টা করলে সৃষ্টিকর্তা কাউকে ফেরান না। প্রতিদিন একটু একটু করে নিজেকে ছাড়িয়ে যাও। তাই হারার আগে হারা যাবে না।

শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত চেষ্টা করতে হবে। নিজের ধর্ম পালন কর। ভাল কিছু হবেই ইনশাআল্লাহ।।

সাওসান কবির চৌধুরী মাইশা
মাগুরা মেডিকেল কলেজ
২০১৮-১৯ সেশন

You cannot copy content of this page